• Home
  • कोलकाता
  • কলকাতা ও কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে একসূত্রে বাঁধতে বের হবে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু’ হেরিটেজ যাত্রা
Image

কলকাতা ও কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে একসূত্রে বাঁধতে বের হবে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু’ হেরিটেজ যাত্রা

কলকাতা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: ফটোগ্রাফির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য পর্যটনকে উৎসাহিত করা সংস্থা বি এ ফোটোরিয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস তাদের বার্ষিক ‘যা দেবী সর্বভূতেষু’ হেরিটেজ ফোটো জার্নির ষষ্ঠ সংস্করণের ঘোষণা করেছে। এবারের যাত্রার মূল ভাবনা—‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আদান-প্রদান’।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফটোগ্রাফি, ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলা ও কাশী (বারাণসী)-র মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে তুলে ধরা এবং আরও সুদৃঢ় করা। অনুষ্ঠানটি দুটি পর্যায়ে আয়োজিত হবে। প্রথম পর্যায়ে অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ডিসেম্বর ২০২৬-এ কাশীতে তিন রাত ও চার দিনের বিশেষ হেরিটেজ ফটোগ্রাফি ওয়াকের আয়োজন করা হবে।

ঐতিহাসিক মৈত্র বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো

যাত্রার বঙ্গ পর্বের সূচনা হবে হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের ঐতিহাসিক মৈত্র বাড়ি থেকে। মৈত্র বাড়ি তাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক দুর্গাপুজোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শ্রীরামপুরে একত্রিত হবেন। পুরোহিত সৌজিত চৌধুরীর পরিচালনায় পুজো ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, শ্রীরামপুরের শ্রী শ্রী সারদা রামকৃষ্ণ অনুসন্ধান কেন্দ্রের আধ্যাত্মিক সহযোগিতাও এই কর্মসূচিতে থাকবে।

ওয়ার্ল্ড মার্শাল আর্টস কমিটি (WMAC)-র ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার এই উদ্যোগের সহযোগী সংস্থা হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, যুবসমাজকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করা এবং এই উদ্যোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ত করা।

বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি

এই কর্মসূচিতে চলচ্চিত্র, বন বিভাগ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মার্শাল আর্টস এবং সাংবাদিকতা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন।

আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী দেবিকা মিত্র, বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার তথা GIS ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মাসুমা বেগম, WMAC ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল ডিরেক্টর শিহান দাই কৌস্তভ সরকার, হেরিটেজ ওয়াক ও মিউজিয়াম বিশেষজ্ঞ মিস এস. চ্যাটার্জি এবং নিউজ৪অল ইন্ডিয়া ও নেপালের চিফ এডিটর অমিত কুমার বর্মা।

ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বাংলা ও কাশীকে যুক্ত করার উদ্যোগ

বি এ ফোটোরিয়ান দীর্ঘদিন ধরে ফটোগ্রাফি, ইকো-ট্যুরিজম এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জীবন্ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে নথিবদ্ধ করার কাজ করে আসছে। পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংস্থাটি নমামি গঙ্গে, বারাণসীর পক্ষ থেকে দু’বার সম্মানিত হয়েছে।

বি এ ফোটোরিয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, ‘হেরিটেজ ফোটো জার্নি’র উদ্দেশ্য কেবল পর্যটন বা দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে কলকাতা ও কাশীর মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং ঐতিহ্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল থেকে সংস্থাটি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে নথিবদ্ধ করে সংরক্ষণের কাজ করে আসছে। যাত্রার ষষ্ঠ সংস্করণেও সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে বঙ্গ পর্বের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে, যার সূচনা হবে শ্রীরামপুরের মৈত্র বাড়িতে। এরপর ডিসেম্বর ২০২৬-এ কাশীতে তিন রাত ও চার দিনের হেরিটেজ ফটোগ্রাফি ওয়াকের আয়োজন করা হবে।

সমগ্র কর্মসূচির আয়োজক বি এ ফোটোরিয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস। এই উদ্যোগে WMAC ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার এবং শ্রী শ্রী সারদা রামকৃষ্ণ অনুসন্ধান কেন্দ্র প্রধান সহযোগী সংস্থা হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *