হুগলি নদীতে ‘গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ’ ক্রুজ থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত হেরিটেজ ওয়াক, বাংলার ঐতিহ্য ঘুরে দেখলেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা
অভিষেক ভট্টাচার্য, কলকাতা
কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অফ বুদ্ধিস্ট ট্যুর অপারেটর্স (ABTO)-এর পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টার-এর উদ্যোগে রবিবার এক বিশেষ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের মধ্যে ঐতিহ্য-সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বার্তাও তুলে ধরা হয়।

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল ভাবনা “Tourism for a Better Tomorrow”-কে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল পর্যন্ত হুগলি নদীর বুকে বিশেষ নদী ক্রুজ ‘গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ’-এর মাধ্যমে। এই ক্রুজের আয়োজন করেন ABTO পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টারের সচিব অভিষেক শীট ও সংগীতা শীট।
হুগলি নদীর দুই তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থান ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রগুলির মনোরম দৃশ্য অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে। একইসঙ্গে বাংলায় নদী-পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে আসে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল-এ। সেখানে ABTO-র সদস্যরা একটি বিশেষ হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নেন। বিশ্ব পর্যটন দিবসের থিম-ব্যানার হাতে নিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ঐতিহাসিক মার্বেল স্থাপত্যের সামনে সদস্যরা দলীয় ছবি তোলেন। দিনটির স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এই ছবি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এই উপলক্ষে ABTO পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টারের প্রধান বিদ্যুৎ মিত্র বলেন, “বাংলার নদী ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সম্পদ। এই ধরনের উদ্যোগ শুধু আমাদের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় না, একইসঙ্গে রাজ্যে নদী-পর্যটন ও হেরিটেজ ট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে।”
অনুষ্ঠানে ABTO পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টারের পদাধিকারী ও সদস্যরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—
- বিদ্যুৎ মিত্র – প্রধান, পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টার
- অভিষেক শীট – সচিব/যুগ্ম সচিব, পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টার
- অভিরূপ ঘোষ – যুগ্ম সচিব, পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টার
- অতীন্দ্র নাথ চট্টোপাধ্যায়
- কমল দাস
- লক্ষ্মণ সরকার
- সংগীতা শীট
- রীনা মিত্র
- চন্দন কুইলা, সহ অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং পশ্চিমবঙ্গে নদী ও ঐতিহ্য পর্যটনকে আরও উৎসাহিত করা। তাঁদের মতে, এই বিশেষ কর্মসূচি সেই উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ করেছে।

















